| চাকরিতে আইটি সার্টিফিকেশনের অনেক প্রয়োজনীয়তা আছে, এসবের মূল্যায়নও যথাযথই হয়৷ এসবের গুরুত্ব অপরিসীম, চাকরির প্রমোশনে ও জব এনরিচমেন্টে আইটি সার্টিফিকেশনের বিকল্প নেই৷ তবে এসব আইটি সার্টিফিকেশন নিয়ে বিরক্তের শেষ নেই- একেক পক্ষ একে বিষয়াবলীকে গুরুত্ব দেয় অন্য পক্ষ তা আবার দেয় না৷ এসবের যথার্থ তালিকা নিরূপণ করা নিয়ে মতানৈক্য রয়েছে৷ বর্তমান সময়ে দশটি আইটি সার্টিফিকেশন সকল বিতর্কের উধের্ক্ষ থেকে সর্বশ্রেষ্ঠের তালিকায় রয়েছে সেগুলো হলো- ১. এমসিআইটিপি : এই নতুন প্রজন্মের 'মাইক্রোসফট সার্টিফাইড আইটি প্রফেশনাল ক্রিডেনশিয়াল'-যা হচ্ছে বর্তমানে মাইক্রোসফটের সবচেয়ে বড় প্রমাণ পত্র এটি সব ধরনের আইটি প্রফেশনালদের জন্য কার্যকরী ও বাস্তবিক৷ চাকরির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, এতে বিভিন্ন স্তরে পরীক্ষার মাধ্যমে পাস করে এ প্রমাণপত্র নিতে হবে৷ ডাটাবেজ ডেভেলপার, ডাটাবেজ এডমিনিস্ট্রেটর এন্টারপ্রাইজ মেসেজিং এডমিনিস্ট্রেটর, সার্ভার নিয়ন্ত্রক সবার জন্যই এটি প্রযোজ্য৷ ২. এমসিটিএস : মাইক্রোসফট সার্টিফাইড টেকনোলজি স্পেশালিস্ট বা এমসিটিএস-আইটি স্টাফদের জন্য, বিশেষত ইনস্টলিং, রক্ষণাবেক্ষণ ও ট্রাবলশুটিং এ খুবই উপকারী৷ সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের জন্য এটি নকশা করা হয়েছে যেমন এসকিউএল সার্ভার বিজনেস ইন্টিলিজেন্স, ডাটাবেজ তৈরি, এসকিউএল সার্ভার রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণে এটি অত্যাবশ্যকীয়৷ ৩. সিকিউরিটি পস্নাস : কম্পিউটার সিকিউরিটি পস্নাস মূলত সিকিউরিটি প্রফেশনালদের জন্য ডিজাইনকৃত৷ এখানে নিরাপত্তা ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ নিশ্চয়তা প্রদান না করা গেলেও সময়োপযোগী শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ যার মধ্যে রয়েছে সিস্টেম সিকিউরিটি, নেটওয়ার্ক অবকাঠামো, একসেস নিয়ন্ত্রণ, অডিটিং এবং অর্গানাইজেশনাল সিকিউরিটি বিষয়াবলী৷ ৪. এমসিপিডি : মাইক্রোসফট সার্টিফাইড প্রফেশনাল ক্রিডেনশিয়াল মূলত ডেভেলপারের দক্ষতা, যোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধির জন্য তিনসত্মরের সাজানো নতুন প্রজন্মের সার্টিফিকেট৷ এ কোর্সে ডেভেলপারের সফটওয়্যার সংক্রান সমস্যার সমাধান ও সফটওয়্যার তৈরির ক্ষমতা যাচাই ও আধুনিকায়ন করা হয় যাতে ভিজু্যয়াল স্টুডিও ২০০৮ এবং মাইক্রোসফট ডট নেট ফ্রেমওয়ার্ক ৩.৫ যথাযথ ব্যবহারে পারদর্শী হয়৷ এতে মূলত ব্যবসায়িক কার্যাদি সম্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান দেয়া হয় আইটি কর্মকর্তাদের৷ ৫. সিসিএনএ : সিসকো সার্টিফাইড ইন্টারনেট ওয়ার্ক এঙ্পার্ট বা সিসিআইই যদিও সিসকোর সব গৌরবের অংশীদার- তবে নতুন এই সিসকো সার্টিফাইড নেটওয়ার্ক এসোসিয়েট বা সিসিএনএ পূর্বের সকলের চেয়ে ভাল৷ সিসিআইই এর চেয়ে এটি বেশি আধুনিক ও সময়োপযোগী৷ সিসিএনএ টেকনো বিশেষজ্ঞদের নেটওয়ার্ক স্কিল উন্নয়নে সর্বাধিক সহায়তা সহ সর্বশেষ প্রযুক্তির নেটওয়ার্ক জ্ঞান প্রদান করবে৷ ৬. এ পস্নাস : বর্তমানে একসাথে হার্ডওয়্যার ও সাপোর্ট স্কিল সম্পন্ন আইটি এঙ্পার্ট পাওয়া মুশকিল৷ এ বিষয়ে সম্যক জ্ঞান নিতে দরকার এপস্নাস সমন্নয় আইটি এঙ্পার্ট৷ বর্তমানে সাপোর্ট বিশেষজ্ঞদের প্রয়োজনীয়তার শেষ নেই৷ তাই ডেস্কটপ ইন্সটলেশন, সমস্যা নির্ধারণ ও নিরূপণ, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাপনা, পিসি বা নেটওয়ার্ক ঝামেলার সমাধা সহ বিভিন্ন মৌলিক সমস্যার সমাধান এ+ প্রফেশনালদের বিকল্প নেই৷ ০৭. পিএমপি : প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান বা পিএমআই এর সবচেয়ে ভাল সার্টিফিকেশন হলো প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট প্রফেশনাল সার্টিফিকেশন৷ যা প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট প্রফেশনালদের জন্য খুবই উপকারী৷ এ সার্টিফিকেশনে প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট এঙ্পার্টদের দক্ষতার যাচাই সহ পস্ন্যান করা, নির্বাহী বাজেট ও টেকনো প্রজেক্ট পরিচালনা করার ব্যাপারে বাসত্মব সম্মত জ্ঞান দিয়ে পরীক্ষার মাধ্যমে তা যাচাই করা হয়৷ ফলে তা খুবই তাত্পর্যপূর্ণ তাই এই সার্টিফিকেশন প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট সেক্টরে সর্বাধিক স্বীকৃত প্রমাণ দলিল৷ ৮. এমসিএসই/এমসিএসএ : মাইক্রোসফটের এই সার্টিফিকেশন উইন্ডোজ পস্নাটফর্মে কাজ করার জন্য দরকারী৷ তাছাড়া সর্বক্ষেত্রের কিছু বিশেষ ধারণা এই সার্টিফিকেশন থেকে নেয়া যায়৷ মূলত উইন্ডোজ ও উইন্ডোজ সার্ভার যাবত পস্নাটফর্মের উপর সম্যক জ্ঞান দেয়া সহ প্রাথমিক আরও অনেক বিষয় এর আওতাভূক্ত৷ ৯. সিআইএসএসপি : সার্টিফাইড ইনফরমেশন সিস্টেম সিকিউরিটি প্রফেশনাল মূলত সিকিউরিটি এঙ্পার্টদের ডিজাইনকৃত৷ এটি আনর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত সিকিউরিটি সার্টিফিকেট যেখানে অপারেশন নেটওয়ার্ক ও ফিজিক্যাল সিকিউরিটির পাশাপাশি রিস্ক ম্যানেজমেন্ট, লিগ্যাল বিষয়াদি ও নিরাপত্তা সম্পর্কিত অন্যান্য বিষয়ে সম্যক বাসত্মব জ্ঞান দেয়া হয়৷ ১০. লিনাঙ্ পস্নাস : লিনাঙ্ বিষয়ে আরও আপটুডেট জানতে লিনাঙ্ পস্নাস এর বিকল্প নেই৷ রেডহাট, এসইউএসই বা উবুনটু সিস্টেম নিয়ে যারা কাজ করেন তাদের জন্য এটা উপকারী৷ এ কথা সত্য যে এ দশটি সার্টিফিকেট সবচেয়ে আধুনিক যা প্রয়োজনীয় হিসেবে গণ্য করা হলেও এগুলোই সর্বাধিক ও সর্বশ্রেষ্ঠ থাকবে তা বলা মুশকিল৷ কেননা, এগুলোর পাশাপাশি এইচআইপিএএ বা সারবেনস্ এঙ্েেল (এসওএঙ্) সহ ভিওআইপি ও পিসি প্রস্তুতকারীদের সার্টিফিকেশনও অত্যন প্রয়োজনীয় ও তাত্পর্যপূর্ণ |
Wednesday, October 27, 2010
সেরা ১০ আইটি সার্টিফিকেশন
Wednesday, October 13, 2010
দুর্গাপূজা
দুর্গাপূজা বা দুর্গোৎসব হিন্দু দেবী দুর্গার আরাধনাকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত হওয়া বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের বৃহত্তম ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব। শাস্ত্রীয় বিধানে আশ্বিন মাসের শুক্ল পক্ষে এবংচৈত্রমাসের শুক্লপক্ষে দুর্গোৎসব পালন করা যায়। চৈত্র অর্থাৎ বসন্তকালের দুর্গাপূজা বাসন্তী দুর্গাপূজা ও আশ্বিন অর্থাৎ শরৎকালের দুর্গাপূজা শারদীয়া দুর্গাপূজা নামে পরিচিত। বাংলায় শারদীয়া দুর্গাপূজা অধিক জনপ্রিয়। যদিও অনেক পরিবারে বাসন্তী দুর্গোৎসব পালনের প্রথাও বর্তমান।
দুর্গাপূজা ভারতীয় উপমহাদেশের অন্তর্গত একাধিক রাষ্ট্রে পালিত হয়ে থাকলেও, এটি বিশেষ করে বাঙালিদের উৎসব হিসাবে চিহ্নিত হয়ে থাকে। পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরায় এই উৎসবের জাঁকজমক সর্বাধিক। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ও বিশেষ উৎসাহে এই উৎসব পালন করে থাকেন। এমনকি অসম ও ওড়িশাতেও দুর্গাপূজা মহাসমারোহে পালিত হয়ে থাকে। বর্তমানকালে পাশ্চাত্য, মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার যেসব দেশগুলিতে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিরা কর্মসূত্রে অবস্থান করেন, সেখানেও মহাসমারোহে দুর্গোৎসব আয়োজিত হয়ে থাকে। এই কারণে সারা বিশ্বের কাছেই বর্তমানে বাংলার অন্যতম প্রতীক হয়ে উঠেছে দুর্গোৎসব। ২০০৬ সালে ব্রিটিশ মিউজিয়ামের গ্রেট হল-এ ভয়েসেস অব বেঙ্গল সিজন নামে একটি সাংস্কৃতিক প্রদর্শনীর অঙ্গ হিসাবে বিরাট দুর্গোৎসবের আয়োজন করেন স্থানীয় বাঙালি অভিবাসীবৃন্দ ও জাদুঘর কর্তৃপক্ষ।[১]
সাধারণত আশ্বিন শুক্লপক্ষের ষষ্ঠ দিন অর্থাৎ ষষ্ঠী থেকে দশম দিন অর্থাৎ দশমী অবধি পাঁচ দিন দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এই পাঁচটি দিন যথাক্রমে দুর্গাষষ্ঠী, মহাসপ্তমী, মহাষ্টমী, মহানবমী ওবিজয়া দশমী নামে পরিচিত। আবার সমগ্র পক্ষটি দেবীপক্ষ নামে আখ্যাত হয়। দেবীপক্ষের সূচনা হয় পূর্ববর্তী অমাবস্যার দিন; এই দিনটি মহালয়া নামে পরিচিত। অন্যদিকে দেবীপক্ষের সমাপ্তি পঞ্চদশ দিন অর্থাৎ পূর্ণিমায়; এই দিনটি কোজাগরী পূর্ণিমা নামে পরিচিত ও বাৎসরিক লক্ষ্মীপূজার দিন হিসাবে গণ্য হয়। দুর্গাপূজা মূলত পাঁচদিনের অনুষ্ঠান হলেও মহালয়া থেকেই প্রকৃত উৎসবের সূচনা ও কোজাগরী লক্ষ্মীপূজায় তার সমাপ্তি। পশ্চিমবঙ্গের কোনও কোনও পরিবারে অবশ্য পনেরো দিনে দুর্গোৎসব পালনের প্রথা আছে। এক্ষেত্রে উৎসব মহালয়ার পূর্বপক্ষ অর্থাৎ পিতৃপক্ষের নবম দিন অর্থাৎ কৃষ্ণানবমীতে শুরু হয়ে থাকে। বিষ্ণুপুরের প্রাচীন রাজবাড়িতে আজও এই প্রথা বিদ্যমান। পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরায় মহাসপ্তমী থেকে বিজয়া দশমী অবধি জাতীয় ছুটি ঘোষিত থাকে; এই ছুটি বাংলাদেশে কেবলমাত্র বিজয়া দশমীর দিনই পাওয়া যায়।
বর্তমানকালে দুর্গাপূজা দুইভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে – ব্যক্তিগতভাবে পারিবারিক স্তরে ও সমষ্টিগতভাবে পাড়া স্তরে। ব্যক্তিগত পূজাগুলি নিয়মনিষ্ঠা ও শাস্ত্রীয় বিধান পালনে বেশি আগ্রহী হয়; এগুলির আয়োজন মূলত বিত্তশালী বাঙালি পরিবারগুলিতেই হয়ে থাকে। অন্যদিকে একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের বাসিন্দারা একত্রিত হয়ে যৌথ উদ্যোগেও দুর্গোৎসবের আয়োজন করেন। এগুলি বারোয়ারি বা সর্বজনীন পূজা নামে পরিচিত। সর্বজনীন পূজার উদ্ভবের ইতিহাসের সঙ্গে ব্রিটিশ-বিরোধী আন্দোলনের ঐতিহ্য ওতোপ্রতোভাবে জড়িত। আজকাল এই পূজাগুলিতে থিম পূজা অর্থাৎ, থিম ভিত্তিক মণ্ডপ ও প্রতিমা নির্মাণের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।