Wednesday, October 13, 2010

দুর্গাপূজা

দুর্গাপূজা বা দুর্গোৎসব হিন্দু দেবী দুর্গার আরাধনাকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত হওয়া বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের বৃহত্তম ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব। শাস্ত্রীয় বিধানে আশ্বিন মাসের শুক্ল পক্ষে এবংচৈত্রমাসের শুক্লপক্ষে দুর্গোৎসব পালন করা যায়। চৈত্র অর্থাৎ বসন্তকালের দুর্গাপূজা বাসন্তী দুর্গাপূজা ও আশ্বিন অর্থাৎ শরৎকালের দুর্গাপূজা শারদীয়া দুর্গাপূজা নামে পরিচিত। বাংলায় শারদীয়া দুর্গাপূজা অধিক জনপ্রিয়। যদিও অনেক পরিবারে বাসন্তী দুর্গোৎসব পালনের প্রথাও বর্তমান।

দুর্গাপূজা ভারতীয় উপমহাদেশের অন্তর্গত একাধিক রাষ্ট্রে পালিত হয়ে থাকলেও, এটি বিশেষ করে বাঙালিদের উৎসব হিসাবে চিহ্নিত হয়ে থাকে। পশ্চিমবঙ্গত্রিপুরায় এই উৎসবের জাঁকজমক সর্বাধিক। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ও বিশেষ উৎসাহে এই উৎসব পালন করে থাকেন। এমনকি অসমওড়িশাতেও দুর্গাপূজা মহাসমারোহে পালিত হয়ে থাকে। বর্তমানকালে পাশ্চাত্য, মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার যেসব দেশগুলিতে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিরা কর্মসূত্রে অবস্থান করেন, সেখানেও মহাসমারোহে দুর্গোৎসব আয়োজিত হয়ে থাকে। এই কারণে সারা বিশ্বের কাছেই বর্তমানে বাংলার অন্যতম প্রতীক হয়ে উঠেছে দুর্গোৎসব। ২০০৬ সালে ব্রিটিশ মিউজিয়ামের গ্রেট হল-এ ভয়েসেস অব বেঙ্গল সিজন নামে একটি সাংস্কৃতিক প্রদর্শনীর অঙ্গ হিসাবে বিরাট দুর্গোৎসবের আয়োজন করেন স্থানীয় বাঙালি অভিবাসীবৃন্দ ও জাদুঘর কর্তৃপক্ষ।[১]

সাধারণত আশ্বিন শুক্লপক্ষের ষষ্ঠ দিন অর্থাৎ ষষ্ঠী থেকে দশম দিন অর্থাৎ দশমী অবধি পাঁচ দিন দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এই পাঁচটি দিন যথাক্রমে দুর্গাষষ্ঠী, মহাসপ্তমী, মহাষ্টমী, মহানবমীবিজয়া দশমী নামে পরিচিত। আবার সমগ্র পক্ষটি দেবীপক্ষ নামে আখ্যাত হয়। দেবীপক্ষের সূচনা হয় পূর্ববর্তী অমাবস্যার দিন; এই দিনটি মহালয়া নামে পরিচিত। অন্যদিকে দেবীপক্ষের সমাপ্তি পঞ্চদশ দিন অর্থাৎ পূর্ণিমায়; এই দিনটি কোজাগরী পূর্ণিমা নামে পরিচিত ও বাৎসরিক লক্ষ্মীপূজার দিন হিসাবে গণ্য হয়। দুর্গাপূজা মূলত পাঁচদিনের অনুষ্ঠান হলেও মহালয়া থেকেই প্রকৃত উৎসবের সূচনা ও কোজাগরী লক্ষ্মীপূজায় তার সমাপ্তি। পশ্চিমবঙ্গের কোনও কোনও পরিবারে অবশ্য পনেরো দিনে দুর্গোৎসব পালনের প্রথা আছে। এক্ষেত্রে উৎসব মহালয়ার পূর্বপক্ষ অর্থাৎ পিতৃপক্ষের নবম দিন অর্থাৎ কৃষ্ণানবমীতে শুরু হয়ে থাকে। বিষ্ণুপুরের প্রাচীন রাজবাড়িতে আজও এই প্রথা বিদ্যমান। পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরায় মহাসপ্তমী থেকে বিজয়া দশমী অবধি জাতীয় ছুটি ঘোষিত থাকে; এই ছুটি বাংলাদেশে কেবলমাত্র বিজয়া দশমীর দিনই পাওয়া যায়।

বর্তমানকালে দুর্গাপূজা দুইভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে – ব্যক্তিগতভাবে পারিবারিক স্তরে ও সমষ্টিগতভাবে পাড়া স্তরে। ব্যক্তিগত পূজাগুলি নিয়মনিষ্ঠা ও শাস্ত্রীয় বিধান পালনে বেশি আগ্রহী হয়; এগুলির আয়োজন মূলত বিত্তশালী বাঙালি পরিবারগুলিতেই হয়ে থাকে। অন্যদিকে একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের বাসিন্দারা একত্রিত হয়ে যৌথ উদ্যোগেও দুর্গোৎসবের আয়োজন করেন। এগুলি বারোয়ারি বা সর্বজনীন পূজা নামে পরিচিত। সর্বজনীন পূজার উদ্ভবের ইতিহাসের সঙ্গে ব্রিটিশ-বিরোধী আন্দোলনের ঐতিহ্য ওতোপ্রতোভাবে জড়িত। আজকাল এই পূজাগুলিতে থিম পূজা অর্থাৎ, থিম ভিত্তিক মণ্ডপ ও প্রতিমা নির্মাণের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

Monday, October 4, 2010

গ্রামীণ উন্নয়নে তথ্য প্রযুক্তি সেবা

তথ্যকেন্দ্র -

টেলিসেন্টার কি?

· টেলিসেন্টার হলো সর্বসাধারণের গমনাগমনের জন্য একটি সাধারণ স্থান;

· যেখান থেকে তাঁরা তাদের জীবন-জীবিকার সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে সঠিক তথ্য পেতে পারে;

· যেখান থেকে তাঁরা তাদের জীবন-জীবিকার সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন সেবা পেতে পারে;

· যা তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তির বিভিন্ন মাধ্যম যেমন কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট ইত্যাদি ব্যবহার করে সংগ্রহ করতে পারে;

· যা মূলত সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় সঠিক তথ্যের প্রবাহ নিশ্চিত করে জীবন-জীবিকার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টিতে কার্যকারী ভূমিকা রাখে।

· বিভিন্ন দেশে টেলিসেন্টার ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিত, এমনকি প্রতিষ্ঠান ভেদে এর নামও ভিন্ন। বাংলাদেশে ডি.নেটের উদ্যোগে লোকজ প্রতিষ্ঠানের সাথে যৌথভাবে পরিচালিত টেলিসেন্টারগুলো পল্লীতথ্য কেন্দ্র নামে পরিচালিত।

টেলিসেন্টার কাদের জন্য?

· সমাজে সুবিধাবঞ্চিত, নারীসহ সকল শ্রেণীর মানুষকে তথ্য পরামর্শ সেবা প্রদানের জন্য টেলিসেন্টার কাজ করবে;

· টেলিসেন্টার থেকে তথ্য সেবা গ্রহণে কোনভাবেই কোন ব্যক্তি বাদ পড়বে না কিংবা বঞ্চিত হবে না।

টেলিসেন্টার কেন দরকার?

· বর্তমান বিশ্বে তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তির উত্তরোত্তর বিকাশ দারিদ্র্য বিমোচন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে নানাভাবে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। কিন্তু উন্নয়নশীল দেশগুলো সুযোগ থেকে অনেক পিছিয়ে আছে যা বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও সত্য, আরো বেশী সত্য এদেশের গ্রামাঞ্চলগুলোর ক্ষেত্রে;

· গ্রামগুলোতে এখনও তথ্য প্রযুক্তির বিষয়টি অধিকাংশেরই অজানা যার ফলে গ্রাম শহরের মধ্যে নানা দিক থেকে ব্যবধান ক্রমশ: বেড়েই চলেছে;

· এসমস্ত বাস্তবতা এবং মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায় পল্লীবাসীর জীবন-জীবিকার মান উন্নয়নের একটি বড় বাধা হচ্ছে তাদের কাছে সঠিক সময়ে সঠিক প্রয়োজনীয় তথ্য না পৌঁছানো;

· সঠিক সময়ে সঠিক প্রয়োজনীয় তথ্যের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে বর্তমানে কার্যকারী ভূমিকা রাখছে কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট ইত্যাদি ছাড়াও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিভিন্ন মাধ্যম;

· কিন্তু যেখানে আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ দারিদ্রসীমার নিচে বাস করে, নুন আনতে পানতা ফুরায় সেখানে তাদের কাছে কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট এগুলো অকল্পনীয়;

· প্রত্যেকে কম্পিউটার, মোবাইল ফোন ইত্যাদি কিনে বাড়িতে বসে নিজে ব্যবহার করবে এটা আরও অকল্পনীয়;

· এসকল প্রতিকূলতা কাটিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য টেলিসেন্টারই হতে পারে একমাত্র স্থান যেখান থেকে সর্বসাধারন সংগ্রহ করবে তাদের দৈনন্দিন জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় নানা তথ্য। প্রয়োজন হবে না প্রত্যেকের ঘরে ঘরে কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট থাকার; এগুলোর ব্যবহার বিধি না জানলেও সমস্যা নেই কেননা কাজে সহযোগিতার জন্য সবসময় থাকবে একদল দক্ষ তথ্যকর্মী।

টেলিসেন্টার যেভাবে কাজ করবে

নমুনা হিসাবে তথ্য কেন্দ্র যেভাবে পরিচালিত হয় তা নিচের চক্রটির মাধ্যমে দেখানো হলো-

  • তথ্যকর্মীর সহযোগিতায় বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে টেলিসেন্টারে বসেই সকলে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন
  • মোবাইল তথ্যকর্মী মোবাইল ফোন নিয়ে বাড়িতে বাড়িতে যায় এবং মানুষকে প্রয়োজনীয় তথ্য পরামর্শের জন্য হেল্পডেস্কে বিশেষজ্ঞের সাথে যোগাযোগ করিয়ে দেন
  • তথ্যকর্মী সরাসরি বিভিন্ন পেশাজীবির কাছে যায়, তার সমস্যা শোনে এবং পরামর্ম পেতে সহযোগিতা করেন
  • তথ্যের গুরুত্ব বোঝাতে এবং মানুষের আগ্রহ সৃষ্টি করতে তথ্যকর্মী গ্রামে গ্রামে মোবিলাইজেশনের কাজ করেন